গুগল এডসেন্সে এপ্লাই করার পূর্বে আপনাকে ওয়েবসাইটের কনটেন্ট সম্বন্ধে যেসব বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে. 24techy

গুগল এডসেন্সে এপ্লাই করার পূর্বে আপনাকে ওয়েবসাইটের কনটেন্ট সম্বন্ধে যেসব বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে. 24techy

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা,

কেমন আছেন সবাই? আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমার ব্লগে সবাইকে স্বাগতম। অনেক মানুষ আছে যারা গুগল এডসেন্সে এপ্লাই করেছে কিন্তু সফলতার মুখ এখনো দেখেনি। আমি আজকে বলবো কিভাবে একটা অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভ অ্যাকাউন্ট তৈরি করা যায় ব্লগার অথবা ওয়ার্ডপ্রেসে এবং যার মাধ্যমে আপনি টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আশা করি আপনাদের ভাল কিছু দিতে পারব। তো চলুন শুরু করা যাক……

⇒⇒  দুই ধরনের গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট হয়। এক প্রকারের হচ্ছে হোস্টেড গুগল এডসেন্স, দ্বিতীয় প্রকার হচ্ছে নন হোস্টেড গুগল এডসেন্স অথবা Fully Approved Adsense।

হোস্টেড এডসেন্স হচ্ছে আপনাকে ফ্রি ডোমেইন এবং হোস্টিং দেওয়া হবে যার মাধ্যমে আপনি আপনার পোস্ট অথবা ভিডিও শেয়ার করতে পারবেন কোন ধরনের টাকা-পয়সা ছাড়াই। এই ধরনের ফ্রি ওয়েব ডোমেইন এবং হোস্টিং এর মাধ্যমে আপনি যখন গুগল এডসেন্সে এপ্লাই করবেন তখন এই ধরনের এডসেন্স গুলোকে বলা হবে হোস্টেড গুগল এডসেন্স। আপনাকে আরো মনে রাখতে হবে, যেসকল ডোমেইন এবং হোস্টিং আপনি ফ্রি ব্যবহার করবেন তাদের সাথে গুগলের চুক্তি থাকতে হবে, না হলে আপনি গুগল এডসেন্সে এপ্লাই করতে পারবেন না অথবা এডসেন্স এপ্লাই করলেও আপনি সফল হবেন না। আপনি যখন হোস্টেড ডোমেইনের মাধ্যমে গুগল এডসেন্সে এপ্লাই করবেন তখন লভ্যাংশ তিন ভাগে ভাগ হবে এক ভাগ পাবে গুগল, এক ভাগ পাবে, যাদের কাছ থেকে আপনি এই ফ্রি হোস্টিং এবং ডোমেইন নিচ্ছেন তাদের এবং আরেক অংশ আপনার। কিছু হোস্টেড সাইটের উদাহরন হচ্ছে ইউটিউব, ব্লগার, ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস ইত্যাদি।

⇒⇒  নন হোস্টেড এডসেন্স বলতে বোঝায় ডোমেইন এবং হোস্টিং আপনার নিজের কেনা এবং এই ডোমেইন এবং হোস্টিং এর উপর আপনার সম্পূর্ণ কন্ট্রোল আছে এবং এখানে কোন থার্ডপার্টি সংযুক্ততা নেই. এই ধরনের সাইটগুলোর মাধ্যমে আপনি বেশি পরিমাণে ইনকাম করতে পারবেন কারণ এই ইনকামের একটা অংশ নিবে গুগল এবং আরেকটা অংশ নিবেন শুধু আপনি।

এখন আমি আলোচনা করবো যে আপনি যখন এডসেন্সে এপ্লাই করবেন, তার পূর্বে সাইটের যে যে বিষয় গুলোকে ঠিক রাখতে হবে বা আপনার করণীয় গুলো…

১। পেজ টাইপ অথবা ব্লক ডিজাইন: মনে করুন আপনি এমন একটি সাইট ডিজাইন করলেন যেটাতে সব ধরনের কালার আছে। এখন কোন ভিজিটর যখন আপনার সাইট পরিদর্শন করতে আসবে তখন এত ধরনের কালার কম্বিনেশন দেখে সে অবশ্যই আশাহত হবে। এই কারণে আপনার ভিজিটর কমবে এবং যার কারণে আপনার অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভাল পেতে সমস্যা হতে পারে।

২। আপনি যে সাইটটি ডিজাইন করবেন অবশ্যই খেয়াল রাখবেন সেই সাইটটি যেন এডসেন্স পলিসির মধ্যে থাকে। যদি না থাকে তাহলে গুগল এডসেন্স পাবেন না। যেমনঃ কোন কনটেন্ট আপনার সাইটে একেবারেই নেই অথবা কপি পেস্ট কনটেন্ট অথবা কোন অর্গানিক ট্রাফিক নেই। এই ধরনের হলে আপনার সাইটের গুগল এডসেন্স পেতে সমস্যা হবে।

৩। এডসেন্সে অ্যাপ্লাই এর পূর্বে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন আপনার সাইটে যেন পর্যাপ্ত পোস্ট থাকে। কমপক্ষে ৪০ এর উপরে পোস্ট রাখার চেষ্টা করবেন।

৪। রেস্পন্সিভ ডিজাইনঃ আপনার সাইটটিকে অবশ্যই রেস্পন্সিভ করবেন। রেস্পন্সিভ করলে সেটা কম্পিউটার এবং মোবাইল উভয়টাতেই দেখতে সুন্দর লাগবে এবং যার কারণে আপনার সাইটের বাউন্স রেট বেশি হবে এবং বাউন্স রেট বেশি হলে আপনার সাইটটিতে ভিজিটরের সংখ্যা বাড়বে এবং আপনি গুগলের মাধ্যমে আয় করতে পারবেন।

৫। ডোমেইন এজঃ আপনার ডোমেইনের বয়স যত বেশি হবে গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভ পাওয়ার সম্ভাবনা তত বেড়ে যাবে। কারন গুগল সবসময় চাইবে আপনার সাইটটি যেন পার্মানেন্ট থাকে ভবিষ্যতে। অভিজ্ঞদের মতে উন্নত দেশগুলোতে ৪৫ দিনের আগে এডসেন্সে এপ্লাই করা ঠিক নয় এবং যারা উন্নয়নশীল দেশ তাদের কমপক্ষে তিন মাস প্রতীক্ষা করা প্রয়োজন।

৬। আপনার সাইটে অবশ্যই হাই কোয়ালিটি কনটেন্ট রাখার চেষ্টা করবেন। এর ফলে আপনার সাইটের ভিজিটর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাবে।

৭। আপনার সাইটে অবশ্যই About,Contact Us,Privacy Policy এই পেজ গুলো রাখবেন. এটা গুগলের শর্তের মধ্যে আছে। অনেক ধরনের সাইট আছে যাদের মাধ্যমে এটা আপনি অটো ক্রিয়েট করতে পারবেন।



৮। একটি সুন্দর XML সাইটম্যাপ তৈরী করুন। গুগল ওয়েবমাস্টার টুল এর জন্য এটা খুবই প্রয়োজনীয়. যদি গুগোলে আপনার পোস্টগুলো ইনডেক্স হয়ে যায় তাহলে এটা সার্চ এ আসার সম্ভাবনা খুবই বেশি থাকে। অনেক ধরনের প্লাগিন আছে ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য যার মাধ্যমে আপনি এক্সএমএল সাইটম্যাপ তৈরি করতে পারেন। যেমন ওয়ার্ডপ্রেস এর ক্ষেত্রে YOAST।

৯। আপনার সাইটে যদি অন্য অ্যাড নেটওয়ার্কের এড থাকে তাহলে দ্রুত সেগুলো রিমুভ করুন কারন গুগলল আপনার সাইটটিকে যখন চেক করবে তখন এই থার্ড পার্টি অ্যাড গুলো দেখলে আপনার এডসেন্স সাপোর্ট করবে না।

১০। ডোমেইন এর নামের সাথে মিল রেখে যদি আপনার ইমেইল আইডি থাকে তাহলে সেটা খুব ভালো হয়. না থাকলেও সমস্যা নেই।

১১। সাইটে গুগল এনালিটিক্স কোড ব্যবহার করতে পারেন। এর মাধ্যমে গুগলের কাছে এই সাইটটি আরো বিশ্বাসযোগ্য হবে এবং দ্রুত এপ্রুভ পেতে পারেন।

১২। অ্যাডাল্ট কনটেন্ট থাকলে সেগুলো খুব দ্রুত রিমুভ করুন। এইগুলো গুগল এডসেন্স এর প্রধান অন্তরায়।

আশা করি এই জিনিস ভাই বিষয়গুলো লক্ষ্য করে যদি আপনি গুগল এডসেন্সে এপ্লাই করেন তাহলে খুব দ্রুত খুব দ্রুত আপনি অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভাল পেয়ে যাবেন। সবাই ভালো থাকবেন এবং আমাদের ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকবেন।

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (1 votes, average: 5.00 out of 5)
Loading...
Spread the love

Related posts

Leave a Comment