কম্পিউটারের গতি বাড়ানো/ হ্যাং হলে কি করবেন/ অতিরিক্ত ব্যাবহারের কুফল/ ল্যাপটপের ব্যাটারির স্থায়িত্ব বাড়ানোর কিছু হট টিপ্স-ট্রিক্স। ২৪টেকি

কম্পিউটারের গতি বাড়ানো/ হ্যাং হলে কি করবেন/ অতিরিক্ত ব্যাবহারের কুফল/ ল্যাপটপের ব্যাটারির স্থায়িত্ব বাড়ানোর কিছু হট টিপ্স-ট্রিক্স। ২৪টেকি

কম্পিউটারের গতি বাড়ানোর কিছু সুপার ডুপার হট টিপস

এখনকার যুগে কম্পিউটার ছাড়া আমাদের প্রায় চলে না বলা চলে। আর এই কম্পিউটার যদি ফাস্ট কাজ না করে তখনই আমাদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। রাগ হয়, কম্পিউটার ভেঙে ফেলতে ইচ্ছা হয়, নিজের উপর রাগ হয় ইত্যাদি। আজকে আমি কিছু টিপস শেয়ার করবো যার মাধ্যমে আপনারা কম্পিউটারকে স্লো থেকে কিছুটা হলেও ফাস্ট করতে পারবেন।

কম্পিউটার ফাস্ট করার জন্য এর হার্ডওয়্যার কনফিগারেশন ভালো হতে হবে। আমার এই টিপস গুলো পড়ে এটা ভাববেন না যে আপনারা কম কনফিগারেশনের কম্পিউটার কেউ সুপারফাস্ট করে ফেলতে পারবেন। মনে করুন আপনি কম্পিউটার কেনার পরে যেরকম পারফরম্যান্স পাচ্ছিলেন অনেক দিন ব্যবহার করার পরে সেই রকম পারফরম্যান্স পাচ্ছেন না। তাহলে কি কি উপায় অবলম্বন করলে আপনার কম্পিউটারটি আগের মত ফাস্ট হবে/কাছাকাছি হবে আমি সেই ধরনের কিছু টিপস শেয়ার করব।

১। আমরা যখন কম্পিউটারে কাজ করি তখন যে অ্যাপ্লিকেশনগুলো ওপেন করি প্রত্যেকটি অ্যাপ্লিকেশনের একটি টেম্পোরারি ফাইল কম্পিউটার তৈরি করে, যেটা C ড্রাইভের Temp নামে একটি ফোল্ডারে জমা হয়। এই ফাইল গুলো অনেক বেশি হয়ে গেলে কম্পিউটার স্লো হয়ে যায়। তেমনি ভাবে Recent এবং Prefetch নামে আরো ফোল্ডার আছে যেগুলোতে আমরা যখন কোন কাজ করি সেই কাজের একটি টেম্পোরারি ফাইল বা ব্যাচ ফাইল তৈরি করে। যার ফলে সিস্টেম অনেক ভারী হয়ে যায় এবং স্লো কাজ করে। এর জন্য আপনারা প্রতিনিয়ত কাজ করার পরে এই ফোল্ডার গুলো থেকে যে টেম্পোরারি ফাইলগুলো থাকবে সেগুলো ডিলিট করে দিবেন অথবা CCleaner নামে একটি সফটওয়্যার আছে যেটা ব্যবহার করার মাধ্যমে খুব সহজেই সব ফাইলগুলো ডিলিট করে ফেলতে পারবেন।

২। আপনি যদি পিসিতে অপ্রয়োজনীয় এনিমেশন এবং ভিজুয়াল ইফেক্ট দিয়ে আপনার ডেক্সটপ সাজান তাহলে এটার কারণে আপনার পিসির গতি অনেক কমে যাবে। তাই পিসির গতি বা পারফরম্যান্স ঠিকঠাক রাখার জন্য আকর্ষণীয় থিম এবং অ্যানিমেশন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

৩। আপনি যদি আপনার কম্পিউটারে কোন এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করে না থাকেন, তাহলে খুব দ্রুত কোনো ভালো মানের এন্টিভাইরাস ব্যবহার করুন এবং প্রতিদিন স্ক্যান করুন। কারণ ভাইরাস আপনার পিসিকে অনেক স্লো করে দিতে পারে। যদি আপনি উইন্ডোজ ১০ এর লাইসেন্স ভার্সন ব্যবহার করেন তাহলে এন্টি ভাইরাস সফটওয়্যার না হলেও চলবে। কারণ উইন্ডোজ ১০ এর উইন্ডোজ ডিফেন্ডার, এন্টিভাইরাস প্রোগ্রামটি অনেক ভালো মানের এবং এর মাধ্যমে আপনি ভালোভাবে স্ক্যান করতে পারবেন। প্রতিনিয়ত উইন্ডোজ ডিফেন্ডারটিকে যদি আপনি আপডেটেড রাখেন তাহলে কোন ভাইরাস আপনার কম্পিউটারকে ক্ষতি করতে পারবে না এবং আপনার কম্পিউটার স্লো হবে না।
৪। আপনার কম্পিউটারে যদি র‍্যাম কম থাকে তাহলে সেই কারণে কম্পিউটার স্লো হতে পারে। তাই যদি আপনি আরো ভালো পারফর্মেন্স আশা করেন তাহলে আপনার কম্পিউটারে বাড়তি র‍্যাম যোগ করুন। র‍্যামকে বলা হয় কম্পিউটারের প্রাইমারি মেমোরি। যখনই আমরা কোন প্রোগ্রাম বা ভিডিও কিংবা অডিও ইত্যাদি ওপেন করি তা প্রাথমিকভাবে র‍্যামে সংরক্ষিত হয় এবং সেখান থেকে রান করে। তাই আপনার র‍্যাম যত বেশি হবে প্রোগ্রামগুলো তত ফাস্ট কাজ করবে।

৫। হার্ডডিক্স এর কারণেও আপনার কম্পিউটারটি অনেক স্লো হতে পারে। আপনি যদি অনেকদিন ধরে একই হার্ডডিক্স ব্যবহার করেন তাহলে সেই হার্ডডিক্স এর পারফর্মেন্স দিন দিন কমতে থাকে। তাই আপনার হার্ডডিক্সটি চেক করুন। যদি পারেন তাহলে সলিড স্টেট হার্ড ড্রাইভ ব্যবহার করুন কারন এটার পারফরম্যান্স হার্ডডিস্ক থেকে কয়েক গুণ বেশি। সলিড স্টেট ড্রাইভ অনেকটা র‍্যামের মতো দেখতে হয় এবং এর উপরে মেমোরি চিপ লাগানো থাকে। হার্ডডিস্ক থেকে সলিড স্টেট ড্রাইভের দাম অনেক বেশি কিন্তু এর read-write পারফরম্যান্স হার্ডডিস্ক থেকে অনেক অনেক বেশি। হার্ডডিস্কের ট্রাবলশুট নিয়ে আমার এই পোস্টটি দেখতে পারেন। এখানে

৬। কম্পিউটার স্টার্ট করার সময় যেসব সফটওয়্যার চালু হয় সেগুলো লক্ষ করুন। কারণ এই সকল সফটওয়্যার কম্পিউটারের গতিকে কমিয়ে দেয়। এজন্য স্টার্ট মেনু থেকে TaskManager টাইপ করুন। এখানে কম্পিউটার চালু হওয়ার সময় যে সকল সফটওয়্যার গুলো ওপেন হয় সেগুলোর লিস্ট দেখতে পাবেন, তারা কত মেমোরি ইউজ করছে সেটাও দেখতে পাবেন। এখান থেকে অপ্রয়োজনীয় সকল সফটওয়্যারগুলো সিলেক্ট করে End Process এ ক্লিক করুন। তবে End Process করার আগে অবশ্যই ভালোভাবে জেনে নেবেন যে এটা সেই সফট্ওয়ার কি না। কারণ ভুলভাবে অন্য কিছু End Process করে দিলে আপনার কম্পিউটারে সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি সমস্যা দেখা দেয় তাহলে কম্পিউটারটি একবার রিস্টার্ট দিন। তাহলে আর প্রবলেম হবে না।

৭। যদি আপনার কম্পিউটারে অসংখ্য ভাইরাস এবং সফটওয়্যার ইন্সটল থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে যদি সম্ভব হয় তাহলে নতুন করে উইন্ডোজ ইন্সটল করুন। কারণ নতুন করে উইন্ডোজ ইন্সটল করলে ভাইরাস সহ সবধরনের অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে যাবে। যদি পারেন তাহলে হার্ডডিস্কে নতুন করে ফরম্যাট করে পার্টিশন করুন।

৮। প্রতিনিয়ত আপনি যে সকল ওয়েব ব্রাউজার ব্যবহার করেন সেগুলোর Cache ডিলিট করুন। কারণ Cache, C ড্রাইভে জমা হয় এবং এর কারনে কম্পিউটার স্লো হয়ে যায়। ব্রাউজার এর ধরন অনুযায়ী সেটিংস গুলো বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। তাই একটু খেয়াল করলেই আপনি হিস্টোরি অপশনটি খুজে পাবেন এবং এখান থেকে Cache মুছে ফেলতে পারবেন।

৯। আপনার হার্ডডিক্স এর পারফর্মেন্স বাড়াতে এবং ব্যাড সেক্টর ঠিক করার জন্য আপনি উইন্ডোজের ডিস্ক ডিফ্র্যাগমেন্ট চালাতে পারেন। তবে ৭দিন অথবা ১৫দিন পরপর চালাবেন, প্রতিনিয়ত না। কারণ এতে হার্ডডিক্স এর উপরে প্রেসার পড়ে।

১০। দীর্ঘক্ষন চালানোর জন্যও কম্পিউটার স্লো হতে পারে। এজন্য সমাধান হলো রিস্টার্ট করা। দীর্ঘক্ষন চালালে যে সমস্যাটা হয় সেটা হচ্ছে আপনি যত ধরনের প্রোগ্রাম কিংবা ফাইল ওপেন করেছেন সেগুলো প্রাইমারি মেমোরি অর্থাৎ র‍্যামে জমা হয়ে থাকে। রিস্টার্ট এর মাধ্যমে আসলে সেগুলো র‍্যাম থেকে রিমুভ করা হয়।



অতিরিক্ত কম্পিউটার ব্যবহারের কুফল

মাত্রা অতিরিক্ত কম্পিউটার ব্যবহার অনেক রকম শারীরিক সমস্যার কারণ। বিশ্লেষকরা বলেছেন সাধারণত তিন বা চার ঘন্টার বেশি একনাগাড়ে কম্পিউটারে এ সময় কাটালে শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তো চলুন দেখে নেওয়া যাক এর কুফল কি এবং প্রতিকার কি?

সমস্যা ১
যারা অনেক বেশি সময় কম্পিউটারের সামনে বসে থাকেন তারা বেশিরভাগই পেশির সমস্যায় ভোগেন। বসার অবস্থান যদি ঠিক না হয় তাহলে পিঠের ব্যথা, কোমরে ব্যথা এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

প্রতিকার
চেয়ার এবং কম্পিউটারের টেবিল এমনভাবে স্থাপন করবেন যাতে মনিটরের স্ক্রিন এবং আপনার চোখ একই সরলরেখায় থাকে। এটা উত্তম পদ্ধতি। মেরুদণ্ড সোজা করে বসতে হবে। পা দুটোকে সোজা ছড়িয়ে রাখতে হবে ফলে পেশীতে টান ধরবেনা। কাজের ফাঁকে ফাঁকে উঠে হাঁটতে হবে।

সমস্যা ২
ঘাড়, আঙ্গুল এবং কাঁধে ব্যথা হয়। অনেকক্ষণ ধরে কাজ করলে আঙ্গুলে রক্ত সঞ্চালন কম হয়, ফলে আঙ্গুল ব্যথা হয়, কাঁধের পেশিতেও ব্যথা দেখা দিতে পারে। কব্জি ও আঙ্গুলে কারপাল টানেল সিনড্রোম দেখা দেওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি বেড়ে যায়।

প্রতিকার
মাউস এবং কীবোর্ড কে এমন ভাবে ব্যবহার করুন যাতে হাতের শুধু কবজি দিয়ে কাজ না করে পুরো হাতটাই নড়াচড়া হয়, এতে করে হাতের পেশিগুলো সচল থাকে। যখন টাইপ করবেন না অথবা মাউস নাড়াচাড়া করবেন না তখন হাতকে স্ট্রেচ করুন।

সমস্যা ৩
চোখের সমস্যা

প্রতিকার
এক দৃষ্টিতে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকবেন না। চোখ দুটো মাঝে মাঝে খোলা বন্ধ করুন। স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে কাজ করুন যাতে চোখের উপর বেশি চাপ না পড়ে। f.lux সফটওয়্যারটি ব্যবহার করতে পারেন যাতে ক্ষতিকারক রশ্মি আপনার চোখে না পড়ে। স্ক্রিন থেকে চোখের একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখুন।

সমস্যা ৪
মাথা যন্ত্রণা, মাথা ও ঘাড়ের পেশিতে ঠিকমতো রক্ত সঞ্চালন না হলে মাথা যন্ত্রণা করতে পারে। প্রতিদিন অনেকক্ষণ ধরে কম্পিউটারের সামনে বসে থাকলে চোখের সমস্যা থেকে মাথা ব্যথা হতে পারে।

প্রতিকার
চোখকে অনেকক্ষণ বিশ্রাম দিন। ঘার কুজো না করে সোজা হয়ে কম্পিউটারে কাজ করুন।

সমস্যা ৫
মোটা শরীর কম্পিউটার ব্যবহারের জন্য ক্ষতিকর। কারণ এতে শরীরের নড়াচড়া হয়না, ফলে ফ্যাট জমতে শুরু করে।

প্রতিকার
বিশেষ করে বাচ্চাদের একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিতে হবে গেম খেলার জন্য। তাদেরকে আউটডোর গেমে উৎসাহিত করতে হবে বাবা-মাকে। বড়রা যারা দিনে ৭-৮ ঘণ্টা কম্পিউটারে সময় কাটান, কাজ শেষে বাড়ি ফিরে শরীরকে বিশ্রাম দিন।

সমস্যা ৬
অতিরিক্ত কাজের চাপ। প্রযুক্তি আমাদের শরীর ও মনের উপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলে। দীর্ঘক্ষন কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের স্বাস্থ্য ভেঙ্গে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। অনিদ্রা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

প্রতিকার
চাপ যাতে আপনাকে গ্রাস করতে না পারে তার জন্য আগে থেকে সতর্ক হতে হবে। চাপের কাছে নতি স্বীকার করলে হবে না।

 

পিসি হ্যাং কেন হয়? হ্যাং হলে করনীয় এবং এর হাত থেকে বাচার উপায়।

আমি এখন আপনাদের কম্পিউটারের হ্যাং সমস্যার সম্পর্কে আলোচনা করব, যা আমরা কম্পিউটার ব্যবহারে প্রতিনিয়ত ফেস করে আসছি। এটা খুবই বিরক্তিকর বিষয় যখন হ্যাং করে। আশা করছি কম্পিউটারের হ্যাং সমস্যা সমাধান করতে পুরো পোষ্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ে নিবেন। 

১। পিসি হ্যাং কি?

পিসির হ্যাং এমন একটি সমস্যা, যা আপনার পিসির চলমান কার্য প্রক্রিয়ার ব্যাঘাত ঘটায়। এটি মূলত যখন হয়ে থাকে তখন পিসিতে চলমান কাজগুলো থেমে যায়। এক পর্যায়ে মনিটরে আমরা একটি মাত্র ছবি ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাই, যেই প্রোগ্রামটা হ্যাং করেছে সেটার। পিসি তখন কোন কমান্ড এর রেসপন্স করেনা।

যদি পুনরায় আমরা পিসিকে কোন কমান্ড করি তখন দেখা যায় মনিটরে হালকা সাদা রং এর ফ্লাসের মতো দেখায় এবং Not Responding লেখাটা দেখায়। এক পর্যায়ে পিসি তার কমান্ডকৃত সকল কাজগুলো করা বন্ধ করে দেয়। এভাবে চলতে থাকে। কখনো কিছু সময় পরে হ্যাং চলে যায়, আমরা তখন মনিটরে আমাদের সকল কমান্ড গুলোর রেজাল্ট দেখতে পাই। আবার কখনো কখনো হ্যাং পিসিকে রিস্টার্ট না দেওয়া পর্যন্ত ওইভাবেই চলতে থাকে। মোটকথা, হ্যাং হলো পিসির অস্বাভাবিক অবস্থা যা পিসির স্বাভাবিক অবস্থার বিপরীত চিত্র প্রদর্শন করে থাকে।

২। হ্যাং কেন হয়?

হ্যাং এমন একটি সমস্যা যা যেকোন মূহুর্তেই হতে পারে। বিশেষ করে যখন র‍্যামের উপর ভীষন চাপ পরে ঠিক তখনি এটি হয়ে থাকে। হ্যাং মূলত একাধিক প্রোগ্রাম রান করার কারণে হয়ে থাকে। যখন র‍্যাম তার নূন্যতম স্পেস দিয়ে সবগুলো প্রোগ্রাম কে কভারেজ দিতে পারেনা, ঠিক তখনি র‍্যামের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পিসি হ্যাং হয়ে যায়।

এছাড়া আরও বিভিন্ন কারনে পিসি হ্যাং হয়ে থাকে। যেমন- কম্পিউটারে ভাইরাস থাকার কারণে পিসি হ্যাং হয়, অথবা আপনি অনেকদিন যাবত পিসি ব্যাবহার করে চলেছেন কিন্তু কখনো পিসির আবর্জনা ফাইলসমূহ যেমন অপ্রয়োজনীয় ফাইল যেগুলো পিসি ব্যবহারের দরুন সৃষ্টি হয়ে থাকে। সেগুলোকে নিয়মিত ক্লিন না করা(যেমন- Run অপশনে গিয়ে (tree, recent, prefetch ইত্যাদি ক্লিন করা)। এ কাজ গুলো অবশ্যই যে কোন পিসি ক্লিনার সফটওয়্যার দিয়ে করতে পারেন।

পিসি হ্যাং হওয়ার আরেকটি অন্যতম কারন হলো নতুন ভাবে অপারেটিং সিস্টেম না দিয়ে পুরনো অপারেটিং সিস্টেম-এ বহুদিন যাবত ব্যবহার করা। সাধারনত প্রতি ৬মাস পর পর আপনাকে অন্তত একবার হলেও অপারেটিং সিস্টেম দিতে হবে। তবে সেটা মূলত আপনার ব্যবহারের উপর নির্ভর করে।

যারা প্রচুর গেম খেলে, তাদের এই গেম থেকে অনেক ভাইরাস তৈরি হয়। যার কারনে পিসি স্লো হয়ে যেতে পারে। যার জন্য কেউ কেউ প্রতি ২ মাসে একবার হলেও অপারেটিং সিস্টেম দিয়ে থাকে। এছাড়াও আরো কিছু কারণ রয়েছে যেগুলো হল- আপনার পিসিতে ভারী সফটওয়্যার ব্যবহার করা, অথবা আপনার পিসির কনফিগারেশনের চেয়েও হাই লেভেলের সফটওয়্যার ব্যবহার করা। পিসির Local disk মানে C ড্রাইভে পর্যাপ্ত পরিমান খালি না রাখা। অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইনস্টল দেয়া। পিসিতে এন্টিভাইরাস ব্যবহার না করা। পিসিকে একটি কমান্ড করে, তার রেসপন্স পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করে পুনরায় কমান্ড করা বা বার বার কমান্ড করা। একাধিক প্রোগ্রাম রান করে কাজ করা ইত্যাদি ইত্যাদি। বলতে গেলে হয়তো আরো অনেকগুলো কারন বলতে পারব। যাইহোক পরবর্তী প্রসঙ্গে আসা যাক।

৩। হ্যাং হলে করনীয় কি?

অনেকে আছেন যারা হ্যাং হওয়া মাত্র পিসিকে সাথে সাথে রিস্টার্ট করে দেন। এরূপ করা মোটেও ঠিক না। কেননা এর ফলে সিপিইউ এর যন্ত্রাংশের উপর ভীষন চাপ পড়ে(যেমনঃ প্রসেসর, মেমরি চিপ, আই সি, হার্ডডিস্ক ইত্যাদি)। মাঝে মাঝে এগুলো নষ্ট পর্যন্ত হয়ে যায়। সুতরাং এক্ষেত্রে সতর্ক থাকবেন।

হ্যাং এর সমস্যাটি সাথে সাথে দূর করার জন্য আপনি যা যা করতে পারেন তা হল- প্রথমে আপনি Taskbar এ যান। তারপর মাউসের রাইট বাটনে ক্লিক করে Start task manager এ ক্লিক করুন।

অনেক সময় হ্যাং এর মাত্রা বেশী হলে মাউস পর্যন্ত কাজ করেনা। তখন Start task manager অপশনটি আনার জন্য কিবোর্ড থেকে পর্যায়ক্রমে Ctrl, Alt, Del একসাথে চাপুন। তারপর Windows task manager অপশনটি মনিটরে দেখতে পাবেন। এবার সেখান থেকে Application ট্যাব টি সিলেক্ট করুন। (ডিফল্টভাবে Application ট্যাব টি সিলেক্ট করা থাকে। যদি না থাকে তাহলে সিলেক্ট করে নিবেন)। তারপর Task এ আপনার প্রোগ্রাম গুলোকে এবং status এ প্রোগ্রাম গুলো কি অবস্থায় আছে দেখতে পাবেন। যেমন হ্যাং অবস্থায় না থাকলে প্রোগ্রামটির status এ Running লিখাটি দেখাবে।

আপনি সেখান থেকে আপনার যে প্রোগ্রামটি হ্যাং হয়ে আছে সে প্র্র্রোগ্রাম টির উপর ক্লিক করুন। উল্লেখ্য যে, হ্যাং হওয়া প্রোগ্রামটির status এ আপনি Not Responding লিখাটি দেখতে পাবেন।

এবার নিচে গিয়ে প্রথমে থাকা End Task লিখাটিতে ক্লিক করুন। কিছুক্ষনের মধ্যে আপনার সামনে একটি নটিফিকেশন আসবে। আপনি সেখান থেকে End Now লিখাটিতে ক্লিক করুন। ব্যাস হ্যাং চলে যাবে। যদি না যায় তাহলে এভাবে কয়েকবার করতে থাকুন।




৪। হ্যাং এর হাত থেকে বাচার উপায়?

হ্যাং যেসব কারণে হয়ে থাকে সেই কারণ গুলো নজরে রাখলে আপনি হ্যাং এর হাত থেকে সহজেই রেহাই পাবেন। যে কারণ গুলো আমি ২ নম্বর ধাপটিতে বর্ণনা করেছি সেগুলো। যাইহোক, আপনাদেরকে বিষয়টি আরো সহজ করে দেওয়া যাক। আপনার সি ড্রাইভে অন্তত ৮ জিবির উপরে খালি রাখুন। অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইনস্টল দেয়া থেকে বিরত থাকুন। ভারী সফটওয়্যার গুলোর কাজ যখন করবেন তখন তা ইনস্টল দিবেন এবং কাজ শেষে তা আবার আন ইনস্টল বা রিমোভ করে দিবেন।

একসাথে একাধিক প্রোগ্রাম ব্যবহার করবেন না। পিসিকে সবসময় ক্লিন রাখুন। পিসি ক্লিন রাখার জন্য যেকোন ক্লিনার সফটওয়্যার ব্যাবহার করতে পারেন। একটি নির্দিষ্ট সময় ব্যবহার করার পর আপনার পিসিকে একবার রিস্টার্ট দিয়ে নিন। বিশেষ করে প্রতি ২-৩ ঘন্টা পর পর।

প্রয়োজনে র‍্যাম ক্লিনার এবং র‍্যাম অপটিমাইজার সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ফায়ারওয়াল ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া একটি আপডেট করা এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন। প্রতি ৬ মাস অন্তর অন্তর একবার হলেও উইন্ডোজ সেটআপ করুন।

সর্বোপরি, পিসিকে যখন কোন কমান্ড করবেন উক্ত কমান্ড এর জন্য কিছুটা সময় অপেক্ষা করুন। যদি রেসপনস্ না পান তারপর পুনরায় কমান্ড করুন। কিন্তু একসাথে অথবা একই সময়ে বার বার কমান্ড করবেন না। কেননা অতিরিক্ত কমান্ড হ্যাং হওয়ার মূল কারণ হিসেবে গন্য করা হয়।

ল্যাপটপের ব্যাটারীর স্থায়িত্ব বাড়াতে কি করবেন?

দীর্ঘদিন চলার মতো করেই তৈরি করা হয় ল্যাপটপ কম্পিউটারের ব্যাটারি। তবুও ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমে যাচ্ছে, এমন অভিযোগ শোনা যায় প্রায়ই। পরিবেশগত বাহ্যিক তাপেও দ্রুত গরম হয়ে ব্যাটারির কর্মক্ষমতা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

ব্যাটারির চার্জ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ অবশিষ্ট থাকলে তখনই এটিকে চার্জ করে নিতে হয়। শতভাগ চার্জ হয়ে গেলে ল্যাপটপের ব্যাটারি চার্জ নেওয়া বন্ধ করে সরাসরি বিদ্যুৎ থেকে শক্তি নিয়ে চলতে থাকে। কিছু কৌশল অবলম্বন করে চললে ব্যাটারির চার্জ থাকে দীর্ঘক্ষণ। যা করবেন প্রথমে ল্যাপটপ শতভাগ চার্জ করে নিন।

এরপর কিছু সময় দিয়ে ঠান্ডা করে নিন ল্যাপটপের ব্যাটারি। তারপর ল্যাপটপ চালু করে উইন্ডোজের ডেস্কটপের ডান পাশে নিচে ব্যাটারির আইকনে মাউসের ডান বোতামে চেপে Power Option চালু করুন। পাওয়ার প্ল্যান থেকে Balanced (recommended) এর Change plan settings-এ ক্লিক করুন। আবার Change Advanced power settings-এ ক্লিক করে সেটি খুলুন।

এবার Battery তে ক্লিক করে Critical battery action-এর on battery তে Hibernate নির্বাচন করে দিন। এটি অনেক সময় আগে থেকেও করে দেওয়া থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে নতুন করে আর করার দরকার নেই। Critical battery level-এর on battery এবং Plugged in-এ ৫% নির্ধারণ করে দিন। কম্পিউটার হাইবারনেটে চলে যাওয়ার আগেই অন্য যেকোনো কাজ করে ব্যাটারির চার্জ নিঃশেষ করে নিন।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিশেষ সুবিধা হাইবারনেট, যেটি ল্যাপটপ কম্পিউটারে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। কাজ শেষে কম্পিউটার বন্ধ হলে ঘণ্টা খানেক পর আবারও চার্জ করে ব্যবহার করুন। উইন্ডোজ ভিস্তা এবং ৭-এর কিছু ভিজুয়াল ইফেক্ট এবং থিম ব্যাটারির স্থায়িত্ব কমায়। তাই যাঁদের ল্যাপটপে চার্জ কম থাকে তাঁরা Windows 7 Basic Theme থিমটি ব্যবহার করতে পারেন। এটি ডেস্কটপে মাউসের ডান বোতামে ক্লিক করে Personalize-এ গিয়ে করা যাবে।

ভালো থাকবেন সবাই। কেমন লাগলো কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না।

1 Star2 Stars3 Stars4 Stars5 Stars (No Ratings Yet)
Loading...
Spread the love

Related posts

2 Thoughts to “কম্পিউটারের গতি বাড়ানো/ হ্যাং হলে কি করবেন/ অতিরিক্ত ব্যাবহারের কুফল/ ল্যাপটপের ব্যাটারির স্থায়িত্ব বাড়ানোর কিছু হট টিপ্স-ট্রিক্স। ২৪টেকি”

  1. Subbir

    Thanks for sharing….

    1. admin

      Thanks bro. Stay with us

Leave a Comment