এস ই ও পারফরম্যান্স(SEO Performance) খারাপ হওয়ার কিছু কারণ এবং কিভাবে সেগুলো এড়িয়ে চলবেন?২৪টেকি

এস ই ও পারফরম্যান্স(SEO Performance) খারাপ হওয়ার কিছু কারণ এবং কিভাবে সেগুলো এড়িয়ে চলবেন?২৪টেকি

একটি ব্লগ অথবা একটি ওয়েবসাইট থেকে উপার্জন করতে গেলে এবং গুগলে র‍্যাঙ্ক করাতে গেলে এস ই ও যে কত বড় ভূমিকা পালন করে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু কিছু কিছু বিষয় আছে যেই জিনিস/কাজ গুলোর মাধ্যমে এস ই ও -কে আঘাত করা হয়(মানে এসইও এর গুনাগুন কমে যায়)। যার ফলে গুগলে র‍্যাঙ্ক করাতে গেলে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।




আপনি যখন কোন একটি পোস্ট তৈরি করেন, তখন গুগলের র‍্যাঙ্ক ব্রেইন(Rank Brain) তার আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে চেক করে আপনার পোস্টটিতে কি পরিমাণ কিওয়ার্ড ব্যবহার করা হয়েছে, কিওয়ার্ড এর ঘনত্ব কি এবং এসইও রিলেটেড যে বিষয়গুলো আছে সেগুলো। তাই আপনি যখন আপনার পোস্টকে র‍্যাঙ্ক করাতে যাবেন তখন আপনাকে অবশ্যই গুগলের র‍্যাঙ্ক ব্রেইন যেভাবে বোঝে সেভাবেই পোস্টটি সাজাতে হবে। আপনার ইচ্ছামত সাজালে কিন্তু এসইও তে কোন সুবিধা পাবেন না। অনেক বছর ধরে না হলেও কয়েক বছর ধরে আমি ব্লগ তৈরি করে আসছি এবং এটা চালাতে যেয়ে আমি অনেক সমস্যা সম্মুখীন হয়েছি এবং সেখান থেকে অনেক ধারণা/অভিজ্ঞতা যাই বলেন না কেন জন্মেছে। প্রথমদিকে এসইও ঠিকভাবে কাজ করছিল কিন্তু কিছুদিন পরে দেখতাম যে আমার সাইট সেভাবে র‍্যাঙ্ক করছে না। সবকিছুই ঠিক ছিল কিন্তু কি কারণে হচ্ছিল আমি বুঝতে পারছিলাম না। তাই এটা নিয়ে আমি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এবং সেখান থেকে যে অভিজ্ঞতাগুলো আমি পেয়েছি সেগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করব। এই অভিজ্ঞতা অর্জন করতে গিয়ে অনেক ট্রাফিক হারাতে হয়েছিল আমাকে।

একটা কথা বলে রাখি, মানুষের অভিজ্ঞতা তখনই হয় যখন সে প্রবলেম থেকে উত্তরণ পায় তখন। আর আমার সব অভিজ্ঞতাই যে নিজে নিজে অর্জন করেছি তা নয়। কারণ আমি যখনই প্রবলেমে পড়েছি তখন আমি বিভিন্ন সাইট ঘেটেছি, অনেক ভিডিও দেখেছি এবং সেখান থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে তারপরে প্রবলেম সলভ করেছি। তাই এই ক্রেডিটটি আসলে সবারই প্রাপ্য।

বিভিন্ন সাইটগুলোতে অনেক এসইও -র কৌশল আছে দেখবেন যেগুলো আপনি হয়তো প্রয়োগ করেছেন কিন্তু কাজ হয়নি। কিন্তু আমি আমার পোস্টে সেই বিষয়গুলি ব্যাখ্যা করব যে কিভাবে আপনি নিজের ওয়েবসাইট বা ব্লগের এসইও যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেটা লক্ষ্য করবেন এবং সাইটকে রক্ষা করতে পারবেন। তো চলুন শুরু করা যাক…

১। ওয়েবসাইটের ইউআরএল(URL) পরিবর্তন করা

এটা খুবই বিপদজনক হবে যদি আপনি প্রতিনিয়ত আপনার ইউআরএল পরিবর্তন করতে থাকেন। আর এই কাজটি প্রতিনিয়ত করতে থাকলে গুগল আপনাকে পেনাল্টি দেবে। এমন হতে পারে গুগল আপনার ওয়েবসাইটটিকে দুটি সাইট হিসেবে গণ্য করতে পারে এবং দুটিতে একই রকম কন্টেন্ট আছে। এই ধরনের সমস্যায় পড়লে যে ট্যাগটি ব্যবহার করা হয় সেটাকে বলা হয় ক্যানোনিক্যাল(Canonical) ট্যাগ। লিংক বিল্ডিং, ব্যাকলিংক শুরু করার আগে আপনার সাইটের ক্যানোনিক্যাল সমস্যা থাকলে সেগুলো সমাধান করে নিবেন। কারণ এসইও করার পর যদি আপনি ইউআরএল পরিবর্তন করেন তাহলে শুধু শুধু সময় অপচয় হবে এবং এসইও এর সুবিধাটা থেকে আপনি বঞ্চিত হবেন।
একটি উদাহরণ দেই
১। https://www.24techy.com
২। https://24techy.com
আপনি আপনার ওয়েবসাইটটিকে দর্শকদের কাছে কিভাবে উপস্থাপন করতে চান সেটা আপনার উপর নির্ভর করবে। উপরের দুটি উদাহরণ থেকে আপনি শুধুমাত্র ডোমেইনটাকে রাখতে পারেন অথবা WWW যোগ করে ইউআরএল সেট করতে পারেন। এই জিনিসটা আপনি প্রথমেই ভেবে নিবেন। কারন সাইটটি যখন সম্পুর্নরুপে চালু হবে তখন ইউআরএল টিকে আবার পরিবর্তন করবেন না। এমন না যে আপনি প্রথমটা থেকে বেশি সুবিধা পাবেন এবং দ্বিতীয়টা থেকে কম সুবিধা পাবেন। সার্চ রেজাল্টেও দুই ধরনের ইউআরএল থেকে একই ধরনের সুবিধা পাবেন। যদিও কিছু কিছু এসইও এক্সপার্ট আছে যারা সাইটে ডোমেইন এর প্রথমে w.w.w. ব্যবহার করতে ভালোবাসেন। তবে আপনি যেটাই ব্যবহার করুন না কেন কোন সমস্যা নেই। তবে ইউআরএল -এ যে কিওয়ার্ডটি ব্যাবহার করবেন সেটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি আপনি ইউআরএল টিকে চেঞ্জ করেন এবং সঠিকভাবে ক্যানোনিক্যাল ট্যাগে অন্তর্ভুক্ত না করেন অথবা রিডিরেকশন(Redirection) না করেন তাহলে আপনার গুগল র‍্যাঙ্ক নিচে নেমে যাবে এবং ট্রাফিকও কমে যাবে।

২। কমেন্ট অপশন ডিজেবল করে রাখা

অনেকেই স্প্যামিং এর হাত থেকে বাঁচার জন্য কমেন্ট  অপশনটি ডিজেবল করে রাখে। কিন্তু আপনার কনটেন্ট এর জন্য কমেন্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই অপশনটি কখনো ডিজেবল করবেন না। যখনই নতুন কোন ভিজিটর আপনার সাইটে প্রবেশ করবে এবং আপনার কনটেন্ট এর নিচে বিভিন্ন দর্শকদের কমেন্ট দেখতে পাবে তখন সে আপনার সাইটটিকে গুরুত্ব দিবে এবং অন্যদেরকে উৎসাহিত করবে যাতে ভালো ইনফর্মেশন পাওয়ার জন্য আপনার সাইটটিতে ভিজিট করে। এতে করে সাইটের ট্রাফিক অনেক বেড়ে যাবে। তাই কমেন্ট অপশনটি চালু রাখুন এই সকল সুবিধা নেয়ার জন্য।

৩। ওয়েব সাইটের লোডিং টাইম না কমানো

আপনার ওয়েবসাইটের লোডিং টাইম যদি বেশি হয়, তাহলে এসইও -তে সুবিধা কম পাবেন। আপনার ওয়েবসাইট যদি 3-4 সেকেন্ডের মধ্যে লোড হয় তবে সেটা অনেক পজিটিভ ইফেক্ট ফেলাবে আপনার এসইও তে। কারন গুগল যখন আপনার এসইও র ফ্যাক্টর নিয়ে কাজ করবে তখন এই ফ্যাক্টরও চেক করবে। গুগল চায় তাদের গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সুবিধা দিতে, তাই তারা এসইও তে এমন অনেক ফ্যাক্টর রেখেছে যেগুলোর মাধ্যমে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়া যায়। আপনার যদি ওয়ার্ডপ্রেস সাইট থাকে, তাহলে কিছু প্লাগিন আছে যেগুলোর মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটের গতিকে বৃদ্ধি করতে পারেন। যেমনঃ
W3 Total Cache
WP Super Cache
WP Smush
গুগোলে এমন অনেক ধরনের ওয়েবসাইট পাবেন যেগুলোর মাধ্যমে আপনার সাইটের গতি পরীক্ষা করতে পারবেন এবং সাইটের উন্নতি সাধন করতে পারেন। যেমনঃ Gtmetrix, Google page speed Insights এবং Pingdom website Speed test। এদের মাধ্যমে আপনি সাইটের গতি পরীক্ষা করে দেখতে পারবেন।

৪। ঘন ঘন সাইটের থিম পরিবর্তন করা

ঘন ঘন সাইটের যদি থিম পরিবর্তন করেন, তাহলে এসইওতে ডাউনগ্রেড হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। আমি একবার থিম পরিবর্তন করেছিলাম এর কারণে এসইওর সেটিংস গুলো সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন হয়ে যায়। যার ফলে আমার যে সকল পোস্টগুলো র‍্যাঙ্ক করেছিল সেগুলো আবার অনেকে নিচে নেমে গিয়েছিল। তাই যখন থিম পরিবর্তন করবেন তখন পূর্বের থিমে আপনার যে সকল সেটিংস প্রয়োগ করেছিলেন সেগুলো নতুন থিম এর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করুন। থিম পরিবর্তনের সময় সেটিংস নিরাপদ রাখার কিছু ভালো উপায় আছে এবং আপনি যখন এই কোডগুলো সংরক্ষণ করবেন তখন ম্যানুয়ালি সংরক্ষণ করাটা সবচেয়ে বেশি ভালো হবে।

থিম, এসইওর ক্ষেত্রে অনেক প্রভাব ফেলে। আপনার থিমের কোডগুলো যদি অনেক লো গ্রেড হয় তাহলে এসইও তে প্রভাব পড়বে। এই জন্য আপনি যখন থিম ব্যবহার করবেন তখন সেটার রেটিং এবং রিভিউ দেখে তারপরে ব্যবহার করবেন। থিম পরিবর্তনের ফলে ডাটাবেজের টেবিলের আকার অনেক বৃদ্ধি পায় যেটা এসইও তে অনেক প্রভাব ফেলতে পারে। এটা হয়তো আপনি নাও জানতে পারেন কিন্তু আমি জানার জন্য এটা বললাম। আপনি যখনই কোন একটি নতুন থিম ইন্সটল করবেন তখন সেই থিম তার একটি নির্দিষ্ট সিগনেচার আপনার ডাটাবেজে সংরক্ষণ করে রাখে যেটাকে বলা হয় WP-Options এবং ভিন্ন ভিন্ন থিম যখন আপনি ব্যবহার করবেন তখন আপনার টেবিলের সাইজ অনেক বেড়ে যাবে, যেটা আপনার এসইও কে প্রভাবিত করবে।



৫। ব্রোকেন লিংক(Broken Link)

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার সাইট থেকে ব্রোকেন লিঙ্ক রিমুভ করুন। এই লিঙ্কগুলো হয় কাজ করে না অথবা বিদ্যমান থাকে না। যার ফলে এই লিংকগুলোতে কেউ প্রবেশ করলে 404 এই এররটি শো করে। ব্রোকেন লিংক গুলোর কারণে দর্শক বিরক্ত হয় এবং আপনার সাইটের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এইজন্য আপনার এসইও তে যাতে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে তাই দ্রুত ব্রোকেন লিংক গুলো সরিয়ে ফেলুন। যদি আপনি ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারকারী হন তাহলে ব্রোকেন লিঙ্ক চেকার এই প্লাগইনটির মাধ্যমে সহজে আপনার সাইটের লিঙ্কগুলো চেক করতে পারবেন। এটা খুবই হেল্পফুল প্লাগিন।

৬। এস ই ও প্লাগিনকে সঠিকভাবে কনফিগার না করা

আমার মনে হয় বেশিরভাগ ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহারকারীরা তাদের সাইটের জন্য Yoast অথবা All-in-One এসইও প্লাগিনটি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর জন্য ব্যবহার করে থাকে। আপনি যদি ওয়ার্ডপ্রেসে একেবারেই নতুন হয়ে থাকেন তাহলে আমার পরামর্শ থাকবে আপনি প্রথমে ওয়ার্ডপ্রেসের প্লাগইনগুলো নিয়ে বিভিন্ন ভিডিও অথবা সাজেশন নিন এবং এগুলোকে কিভাবে ব্যবহার করা হয় বা কনফিগার করতে হয় এগুলো সম্বন্ধে জানুন। উপরের এই দুটি প্লাগিন অনেক বেশি জনপ্রিয় সবার কাছে। কিন্তু আপনি যখন ব্যবহার করবেন তখন সতর্কতার সাথে এটাকে কনফিগার করবেন। আর এসইও র জন্য একসাথে অনেকগুলো প্লাগিন ইউজ করবেন না। কারণ অনেকগুলো প্লাগিন ইউজ করলে সেটা মেইনটেইন করা অনেক ঝামেলার আর মূল কথা হচ্ছে যে, এক একটা প্লাগইন আপনার এসইও তে একেকভাবে ইফেক্ট ফেলাবে যার ফলে আপনার এসইও খারাপ সম্ভাবনা থাকবে। তাই আপনার সাইটকে ভালোভাবে এসইও করার জন্য যেকোনো একটি প্লাগিন সঠিকভাবে ইন্সটল করে কনফিগার করুন। যেহেতু প্রতিটি এসইও প্লাগিন নিজস্ব নিয়ম সেট করে তৈরি করা হয়েছে তাই এই জিনিসটি(একসাথে অনেক প্লাগিন ইন্সটল) কখনোই করবেন না।

৭। অপ্রাসঙ্গিক লিংক বা ব্যাকলিংক কেনা থেকে বিরত থাকুন

এই জিনিসটা আপনাকে একটু ভালোভাবে বুঝতে হবে। মনে করুন আপনি কারও কাছ থেকে একটি ব্যাকলিংক কিনলেন অর্থাৎ সে তার সাইটে আপনার কোন একটি পোষ্টের লিংক শেয়ার করবে। কিন্তু দেখা গেল সে তার এমন পোস্ট এর মধ্যে আপনার লিংকটি শেয়ার করলো যেটা অপ্রাসঙ্গিক। অর্থাৎ তার ওই পোষ্টের সাথে আপনার যেই পোস্ট এর লিংক শেয়ার করা হয়েছে সেটি একেবারে অপ্রাসঙ্গিক। গুগলের একটি অ্যালগোরিদম আছে যার নাম পেঙ্গুইন অ্যালগরিদম(Penguin algorithm)। এই পেঙ্গুইন অ্যালগোরিদম নিশ্চিত করে যে আপনার সাইটে নির্দেশিত লিংকটি স্বাভাবিক অর্থাৎ কোনো অর্থ প্রদানকারীর নয়। এলগরিদমটি যখনই দেখবে যে আপনার লিংকটি অপ্রাসঙ্গিক, তখনই এই অ্যালগোরিদমটি মনে করবে আপনি হয়তো কারো কাছ থেকে ব্যাকলিংক কিনেছেন। তখন আপনার সাইটকে পেনাল্টি দেয়া হতে পারে। এই জন্য আপনি যা করতে পারেন তা হল, যখন কোন ব্যাকলিংক কিনবেন তা অবশ্যই প্রাসঙ্গিক পোস্ট এর সাথে লিঙ্ক করতে বলবেন অথবা ইউনিক বা খুব ভালো মানের কনটেন্ট তৈরি করুন যার মাধ্যমে কেউ আপনার পোস্টটি দেখে আপনার লিংকটি নিজে থেকেই শেয়ার করতে চাইবে।

৮। কিওয়ার্ড এর ঘনত্ব স্বাভাবিক রাখুন

আপনি কোন একটি পোস্টে আপনার কী-ওয়ার্ড যদি অনেক বেশি পরিমাণে ব্যবহার করেন তাহলে সেটাকে স্প্যামিং হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। এই জন্য আপনি যদি অনেক বেশি পরিমাণ কিওয়ার্ড ব্যবহার করেন তাহলে গুগলের পান্ডা অ্যালগোরিদম আপনার ওয়েবসাইটের র‍্যাঙ্ক নিচে নামিয়ে দিবে। তাই কিওয়ার্ড বা বাক্যাংশ বেশি বেশি ব্যবহার না করে এমন ভাবে সাজান যাতে করে এই অ্যালগোরিদম বুঝতে পারে যে, আপনার কী-ওয়ার্ডগুলো স্বাভাবিক/প্রাসংগিক। তাই আপনাকে একটি পোস্টে কিওয়ার্ড ডেনসিটি কেমন হতে হবে সেটি সম্বন্ধে ভালো ধারণা রাখতে হবে।

৯. প্রচুর পরিমাণে ডুপ্লিকেট কনটেন্ট তৈরি করা

ডুপ্লিকেট কনটেন্ট বলতে এখানে আমি বোঝাচ্ছি যে আপনার কোন একটি পোষ্টের নির্দিষ্ট বাক্যাংশ আপনি অন্যান্য পোস্টগুলোতে ব্যবহার করেছেন এমন। এবং এই বাক্যাংশ গুলো যদি আপনি বিভিন্ন সোশ্যাল বুকমার্কিং সাইট গুলোতে ব্যবহার করেন সেক্ষেত্রেও এটা বড় ধরনের প্রবলেম হতে পারে। এর ফলে ইউজার এক্সপেরিয়েন্স খুব খারাপ হতে পারে এবং আপনি পান্ডা এলগরিদমের পেনাল্টি পেতে পারেন।

১০. সাইটকে রেস্পন্সিভ তৈরি না করা

আপনার সাইটটি যদি রেস্পন্সিভ না হয় তাহলে সেটা হবে আপনার সব থেকে বড় ভুল। এজন্য আপনার সাইটটিকে রেস্পন্সিভ বানান এবং মোবাইল ডিভাইসের জন্য অপটিমাইজ করুন। কারণ এসইও তে র‍্যাঙ্ক করতে গেলে আপনার সাইটের ডিজাইন, রেস্পন্সিভনেস, মোবাইল ভিউ ফ্যাক্টরগুলো ক্যালকুলেশন করা হয়। এখনকার সময় বেশিরভাগ মানুষ কম্পিউটারের চেয়ে মোবাইল ফোন বা ট্যাবলেট বেশি ব্যবহার করে। তাই আপনার সাইটটি যদি রেস্পন্সিভ না হয়, তাহলে এই ডিভাইসগুলোতে ভালোভাবে শো করবে না। যার ফলে গুগলের SERPতে আপনার সাইটটি র‍্যাঙ্ক করবে না।

১১। এংকর টেক্সটগুলোকে সঠিক ভাবে ব্যবহার না করা

এংকর টেক্সট হচ্ছে কোন একটা কিওয়ার্ড অথবা বাক্যে হাইপারলিংক করা। যার মাধ্যমে ওই কিওয়ার্ডটিতে ক্লিক করলে আমাকে অন্য একটি লিংকে নিয়ে যাবে। এই হাইপারলিংক হতে পারে ডুফলো অথবা নোফলো। ডুফলো(dofollow) অর্থাৎ গুগল সেটাকে বিবেচনায় আনবে আর নোফলো(nofollow) মানে বিবেচনায় আনবে না। SERPতে সবচেয়ে ভালো রেজাল্ট পাওয়ার জন্য বা র‍্যাঙ্ক করার জন্য আপনার কি-ওয়ার্ডগুলোকে একেকভাবে সাজিয়ে লিখুন। মনে করুন আমি “এসইওর সুবিধা কী” এই কিওয়ার্ড র‍্যাঙ্ক করাতে চাচ্ছি। তাহলে এটাকে আমি বিভিন্ন ভাবে লিখতে পারি। যেমনঃ
⇒এসইওর মাধ্যমে আপনি কি কি সুবিধা পাবেন
⇒এসইও তে সুবিধা পেতে গেলে আপনাকে এই সকল কাজ করতেই হবে
⇒যে সকল কাজগুলো এসইও -র সুবিধা পেতে গেলে অবশ্যই করণীয়

এইভাবে আপনি কিওয়ার্ডগুলোকে বিভিন্ন ভাবে সাজিয়ে লিখতে পারেন। আপনি যখন এই ধরনের প্রতিশব্দগুলো ব্যবহার করবেন, তখন গুগলের SERPতে দ্রুত বিন্যাস হতে সাহায্য করবে এবং প্রথম পৃষ্ঠায় আসতে সহায়তা করবে। কারন গুগল এর অ্যালগোরিদম, প্রতিশব্দ বুঝতে পারে এবং এর মাধ্যমে আপনার সাইটকে র‍্যাঙ্ক করানোর ক্ষমতা রাখে।




অতিরিক্ত টিপস

আপনার পোস্টে সুন্দর সুন্দর এবং হাস্যকর ছবি এড করুন এবং সেগুলোকে সুন্দরভাবে অপটিমাইজ করুন। অবশ্যই সেগুলো পোস্ট রিলেটেড হতে হবে। এতে করে ইউজার এক্সপেরিয়েন্স খুব ভালো হবে এবং তারা আপনার কনটেন্টটিকে প্রাধান্য দিবে। কারণ একটি সুন্দর কনটেন্ট এবং ছবির মাধ্যমে দর্শককে আনন্দ দেওয়া যাবে এবং জ্ঞান শেয়ার করা যাবে। তাই এই বিষয়গুলো কন্টেন্টকে র‍্যাঙ্ক করাতে গেলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ট্রাফিক, কমেন্ট এবং পজেটিভ রিভিউ অনেক পাবেন।

শেষ কথা
আপনি যদি এসইও টেকনিকগুলোকে ভুলভাবে অনুসরণ করেন, তাহলে আপনার সাইটটি কুয়ার নিচে পড়ে থাকবে। না পারবেন তুলতে না পারবেন কিছু করতে। তাই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করার পূর্বে এসইও সম্বন্ধে ভালো ধারণা নিন এবং কৌশলগুলো সঠিকভাবে প্রয়োগ করুন। আমি নিশ্চিত সময় একটু বেশি লাগলেও আপনার সাইটটি দ্রুত র‍্যাঙ্ক করবে। কোন জিজ্ঞাসা থাকলে প্রশ্ন করুন এবং সাজেশন থাকলে সেটিও আমাদের জানান।

Spread the love

Related posts

Leave a Comment